ম্যানইউকে হারিয়ে সুপার কাপের শিরোপাও রিয়ালের ঘরে

মঙ্গলবার মেসিডোনিয়ার স্কোপিয়েতে রেড ডেভিলসদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইউয়েফা সুপার কাপ জিতেছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। এনিয়ে মোট ৪বার উয়েফা সুপার কাপের শিরোপা জিতল রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়নস লিগের পর রিয়াল মাদ্রিদ ইউয়েফা সুপার কপের শিরোপাও ধরে রাখলো। প্রথমার্ধে কাসেমিরো ও দ্বিতীয়ার্ধে ইস্কোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। পরে রোমেলু লুকাকু এক গোল শোধ দিলেও ম্যাচে ফিরে আসা হয়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।

পুরো ম্যাচে সবদিক দিয়ে এগিয়েই ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। শুরু থেকেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ীদের কাছে বল পজেশন হারায় হোসে মরিনহোর দল। ১৭ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে পিছিয়েও পড়তে পারত ইউনাইটেড। কাসেমিরোর হেড বারপোস্টে লেগে ফেরত না আসলে। গোল না পাওয়ার আফসোসে অবশ্য বেশিক্ষণ পুড়তে হয়নি রিয়াল মাদ্রিদ ও কাসেমিরোকে। ২৪ মিনিটে সেই কাসেমিরোই এগিয়ে দেন রিয়ালকে। মাঝমাঠ থেকে কারভাহালের উড়িয়ে মারা বল বাঁ পায়ের শটে জালের কোণায় জড়ান এই ব্রাজিলিয়ান।

গোল হজম করে মানসিক ভাবে আরও পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড। মাঝমাঠে রিয়ালের কাছে বাকিটা সময়ই পাত্তা পায়নি মরিনহোর দল। রিয়াল মাদ্রিদ মাঠে নেমেছিল রোনালদোকে ছাড়াই। আক্রমণে ছিলেন বেল, বেনজেমা ও ইস্কো।  আর এবারের মৌসুমে নতুন দলে আনা তিন খেলোয়াড় নিয়েই দল সাজিয়েছিলেন মরিনহো। নতুনদের ভেতর মাতিচই আলো কেড়েছেন বেশি। তবে ইস্কো, কাসেমিরো, মদ্রিচদের কাছে নিষ্প্রভই ছিলেন পগবা, হেরেরারা। মাঝমাঠের দখল তাই পুরো ম্যাচে হাতে গোণা কয়েকবার মাত্র পেয়েছে ইউনাইটেড। আর রোনালদোর অনুপস্থিতিতে ইস্কোও যেন হয়ে উঠেছিলেন আরও ভয়াবহ।

প্রথমার্ধে  রিয়ালের দাপটের কাছে ম্যান ইউনাইটেডের অসহায়ত্বটা ছিল পরিষ্কার। দ্বিতীয়ার্ধের মরিনহোর খেলোয়াড় বদল করাটা অনুমিতই ছিল। লিনগার্ডের জায়গায় রাশফোর্ডকে নামিয়ে দেন ইউনাইটেড ম্যানেজার। ফিরে আসার লক্ষ্য নিয়ে খেলা শুরু করলেও  বিরতির পরপরই আরও পিছিয়ে যেতে পারত ইউরোপা লিগ জয়ীরা। ডিবক্সের বাইরে থেকে টনি ক্রুসের শট গোলরক্ষন ডেভিড ডি গিয়া ঠেকিয়ে দিলে সে যাত্রায় রক্ষা পায় ইউনাইটেড।

তবে দ্বিতীয় গোলের জন্য  এরপর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি রিয়ালকে। ৫২ মিনিটে বক্সের ভেতর গ্যারেথ বেলের সাথে ওয়ান টু খেলে ঢুকে পড়েন ইস্কো। গোলকিপারের সাথে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি থেকে গোল করতে ভুল করেননি স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। ৫২ মিনিটে ২-০ তে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল বড় হারই অপেক্ষা করছে ইউনাইটেডের জন্য।

তবে এরপর ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করে মরিনহোর দল। ইস্কোর গোলের দুই মিনিট পরই এক গোল শোধ দেয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন লুকাকু। পগবার হেড গোলরক্ষক নাভাস ঠেকিয়ে দিলে ফাঁকায় দাঁড়ানো লুকাকু পেয়ে যান বল। সেখান থেকেও বারপোস্টের উপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে হতাশায় ডোবান ইউনাইটেড সমর্থকদের। এরপর ৬২ মিনিটে অবশ্য নিজের ‘পাপের’ প্রায়শ্চিত্ত করেন বেলজিয়ান স্ট্রাইকার। ডিবক্সের বাইরে থেকে নেয়া মাটিচের শট নাভাস ঠেকিয়ে দিলে আবারও প্রায় একই পরিস্থিতিতে বল পেয়ে যান লুকাকু। এবার আর ভুল করেননি। গোল করে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন দলকে ।

এরপর ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর ইউনাইটেডকে সমতায় আনানার দারুণ এক সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন রাশফোর্ডও। মিখিতারিয়ানের থ্রু পাসে তিনিও ওয়ান-অন-ওয়ান অবস্থায় পেয়ে যান নাভাসকে। কিন্তু রাশফোর্ডের নেয়া শট নাভাসের গায়ে লেগে চলে যায় বারপোস্টের পাশ দিয়ে। এরপর আর ম্যাচে ফিরে আসার তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ইউনাইটেড।

খেলার শেষ দিকে মাঠে নামেন রোনালদো। তিনি অবশ্য শেষের ১০ মিনিটে তেমন কিছু করার সুযোগ পাননি। তবে যোগ করা সময়ে অন্য দুই বদলী খেলোয়াড় ভাসকেজ ও অ্যাসেনসিও ব্যবধানটা আরও বাড়াতে পারতেন রিয়ালের হয়ে। ভাসকেজের পাস থেকে অ্যাসেনসিওর শট ঠেকিয়ে দিয়ে ব্যবধানটা ২-১ এই রাখেন ডি গিয়া। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা জয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদ নতুন মৌসুম শুরু করল সুপার কাপ জিতেই।

*

*

Top